পরামর্শ দিয়েছেন

আমাতুল্লাহ শারমিন
ডায়েটিশান ও নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

শিশুর সর্দি-কাশি, জ্বর-এ ট্রাই করুন ঘরোয়া সমাধান

শীতে বাচ্চার সর্দি-কাশি’র সাথে লড়তে ঢাল-তলোয়ার নিয়ে রেডি তো? শীত এলে প্রায় সব বাচ্চাই দেখা যায় সর্দি-কাশি, জ্বর-এ কাবু; ওই সুবাদে স্কুলও মিস! বেশি কিছু না, জাস্ট কিছু অভ্যাস ফলো করলেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব এই চিন্তাগুলো থেকে।

একটা বাচ্চার সুস্বাস্থ্যের বেসিক হচ্ছে বাচ্চাটা ঠিকমতো ঘুমাবে, ভিটামিন ও মিনারেলসযুক্ত খাবার খাবে এবং সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমান পানি বা ফ্লুয়িড গ্রহণ করবে। কিন্তু সব বাবা-মা কি এসব পুরোপুরি খেয়াল রাখতে পারেন বা এতো সময় পান?

চলুন জেনে নিই, শিশুকে সর্দি-কাশি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঘরোয়া সমাধানগুলো কী কী:

চাই ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার

বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি খওয়াতে হবে। ভিটামিন সি আপনার বাচ্চার ইমিউন সিস্টেমকে স্ট্রং করে এবং সৌভাগ্যবশত, লেবু, কমলা, টমেটো, ব্রকলি, পেয়ারা, পেঁপে- এসব ফল ও সবজি ভিটামিন সি-তে ভরপুর। তবে, ভিটামিন সি আমাদের দেহে জমা থাকে না। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩ কাপ করে এসব ফলের রস, বা সবজি খাওয়া প্রয়োজন।

স্যুপ-এ বাড়বে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা

স্যুপ খুবই মজাদার ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার, যা বাচ্চারা খেতে পছন্দ করে। মসূর ডাল দিয়ে বানানো এক বাটি স্যুপ-এ বাচ্চা পাবে তার দেহের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার। এর সাথে অ্যাড করতে পারেন লেবু; যা ওর রুচি বাড়াবে। আপনি চাইলে চিকেন স্যুপ-ও করতে পারেন। মেডিক্যাল রিসার্চ-এ দেখা গিয়েছে যে, চিকেন স্যুপ  চিকেন স্যুপ-এ যে পুষ্টি উপাদান আছে টা ঠাণ্ডার প্রদাহ কমায়। শুধু তাই না, এটা মিউকাস কমায় ও সর্দি কমানোর পাশাপাশি কফ-কাশিতেও বেশ আরাম দেয়। মাঝে মাঝে স্যুপ-এর পুষ্টির পরিমাণ বারাতে এতে নুডলস বা সবজি মেশাতে পারেন; বাচ্চা দেহে শক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুটোই বাড়বে।

১/২ কাপ টক দই প্রতিদিন

বাচ্চাকে প্রতিদিন ১/২ কাপ টক দই খাওয়াতে ভুলবেন না। কারণ, টক দই-তে আছে প্রোবায়োটিক্স বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া যা ইমিউন সিস্টেমকে স্ট্রং করে এবং এর জিআই ট্র্যাক্ট ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে খেয়ে ফেলে। তাই প্রতিদিন, বিশেষ করে শীতকালে বাচ্চাকে টক দই খাওয়াতে ভুলবেন না।

ইমিউনিটি বাড়াবে জিংক সমৃদ্ধ খাবার

কাজুবাদাম, মটর, শিম ও গরুর মাংসে আছে প্রচুর পরিমাণে জিংক। কিন্তু জিংক কেন দরকার? কারণ, জিংক আমাদের দেহে টি-সেল তৈরি করে যা ইমিউনিটি বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাই এই শীতে বাচ্চাকে বানিয়ে দিতে পারেন বিফ, কাজু, মটর ও শিম দিয়ে মজাদার কোনও সালাদ। এটা যে সালাদ, সেটা তাকে আবার বলতে যাবেন না যেন!

হলুদের সাথে মধু মিশিয়ে খাওয়ান

ঠাণ্ডা উপশমে অন্যতম এক ভূমিকা রাখে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হলুদ। ৩.৫ আউন্স মধুতে ১ টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া মিশিয়ে একটি এয়ারটাইট জার-এ রেখে দিন। বাবুর যখনই ঠাণ্ডা লাগবে এটা ১/২ চামচ খাইয়ে দিবেন। চাইলে দুধের সাথেও এক চিমটি হলুদ ও সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

সবসময় গরম গরম খাবার খাওয়ান

মনে আছে যখন আমরা ছোট ছিলাম, ঠাণ্ডা লাগলেই আমাদের দাদি-নানীরা বলতো গরম কিছু খেতে? সত্যি বলতে কি, তারা আসলে কখনই ভুল ছিলেন না। গরম খাবার ও পানীয়, হাঁচি কাশি, সর্দি তে অনেক আরাম দেয় এবং তাড়াতাড়ি ভালো হয়ে যায়। তাই খেয়াল রাখবেন ঠাণ্ডায় বাচ্চার খাবার ও পানি যেন গরম থাকে।

রোগ প্রতিরোধে চাই নিয়মিত মধু

মধু নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা লাগার প্রবণতা কমে। গরম পানি ও লেবুর সাথে মধু মিশিয়ে দিনে ২/৩ বার খেলে হাঁচি, কাশি, জ্বর-জ্বর ভাব, জ্বর, গলা ব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, জিহ্বার ঘা (ঠাণ্ডাজনিত) ভালো হয়। পেনসিলভানিয়া স্টেট কলেজ অব মেডিসিনের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এক চামচ মধু বিভিন্ন সর্দির ঔষধ থেকে অনেক বেশি কার্যকর! মধুতে আছে এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধকারী উপাদান, যা অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্রমণ থেকে দেহকে রক্ষা করে। তবে বাচ্চার বয়স ১ বছর না হলে, তাকে মধু দেয়া যাবে না।

আদা কমাবে ঠাণ্ডা কাশি

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আদা-তে আছে অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি উপাদান, যা আমাদের শ্বাসনালীর মেমব্রেনকে রিল্যাক্স করে। ফলে ঠাণ্ডা কাশি কমে যায়।

ক্বফ থেকে মুক্তি দিবে আনারস

আনারসে আছে ব্রোমেলিন এনজাইম, যার আছে এন্টিইনফ্লামেটরি কার্যকারিতা। এছাড়াও এটি আমাদের গলার মিউকাসকে রিমুভ করে ক্বফ কমাতে সাহায্য করে।

কালোজিরা জ্বর ঠাণ্ডার ,মহাঔষধ

কালোজিরার অন্যতম উপাদানের মধ্যে আছে নাইজেলোন, থাইমোকিনোন। এতে আরও আছে আমিষ, শর্করা, প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড, লিনোলিক এসিড, অলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন-বি, ভিটামিন বি১২, নায়াসিন ও ভিটামিন সি। এসব উপাদানই জীবাণুনাশক। তাই ঠাণ্ডা কাশির জ্বর বা ফ্লুতে এটি অনেক কার্যকরী।

ব্যস, এই ঘরোয়া টিপসগুলো ট্রাই করুন, আশা করি, সর্দি-জ্বর আপনার সন্তানের কাছ থেকে থাকবে ১০০ হাত দূরে। ওহ হ্যাঁ, যাদের ঠাণ্ডা এলার্জি থাকে, তাদের ঘন ঘন ঠাণ্ডা লাগে। এজন্য এসময় এলার্জি জাতীয় খাবার এবং এসিড হয়, এমন খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত। তাই যাদের ঠাণ্ডা অ্যালার্জি আছে, শুধুমাত্র তারাই নিচের খাবারগুলো খাওয়া থেকে তাদের বিরত থাকুন।

১। গরুর মাংস

২। গরুর দুধ

৩। চিংড়ি, ইলিশ

৪। বেগুন, টমেটো

৫। বেশি মসলাযুক্ত খাবার

৬। টমেটো

৭। ফ্রাই জাতীয় খাবার

Leave a Reply