পরামর্শ দিয়েছেন

MD Shafayet Hossain Shohan

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রয়োজন যে ৮টি খাবার

প্রতিটি পরিবারে বাচ্চাদের খাবার নিয়ে থাকে বাড়তি সচেতনতা। বাচ্চাদের সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে, বাচ্চার বয়স অনুযায়ী খাদ্য তালিকায় তেল, চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান ঠিক রাখা উচিত। কারণ, সঠিক খাবার বাচ্চার স্মৃতিশক্তি, একাগ্রতা এবং মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের কাছ থেকে চলুন তবে জেনে নেয়া যাক, শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে কী কী খাবার প্রয়োজন!

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে যেসকল খাবার প্রয়োজন  

. শাক
আপনারা হয়তো অনেকেই “Popeye The Sailor Man” কার্টুনটি দেখেছেন! সেখানে Popeye যে খাবার খেয়ে শক্তিশালী হতো সেটিও কিন্তু এক ধরনের শাক। শাক মস্তিষ্ককে চিন্তা বা স্মৃতিশক্তির দিক দিয়ে শক্তিশালী করে তোলে। বিভিন্ন ধরনের শাক জাতীয় খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ পদার্থ বা মিনারেলসহ নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে। বিশেষ করে সবুজ শাকে পুষ্টি উপাদানের মাত্রা বেশি। এই উপাদানগুলো আপনার বাচ্চার মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, যার ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায় অনেকটাই।

. ডাল
ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন বি-৬, বি-৯ এবং লৌহ রয়েছে। এই পুষ্টি উপাদানসমূহ ভাতের সাথে সবচেয়ে ভালো সমন্বয় তৈরি করে, বাচ্চাদের মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। বাচ্চাদের ডালের সংমিশ্রণে যদি খিচুড়ি খাওয়ানো যায় তবে ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন দুটোর চাহিদাই পূরণ হবে।

. রঙিন সবজি
রঙিন শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। বাচ্চাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে স্বাস্থ্যকর রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিশেষভাবে সহায়তা করে। টমেটো, লাল আলু, কুমড়ো কিংবা গাজর ইত্যাদি সবজিতে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড নামক এক জাতীয় উপাদান। ক্যারোটিনয়েড স্নায়ু ভালো রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এই ধরনের সবজি মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

. ডিম
ব্রেকফাস্টে প্রোটিন এবং স্বল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রাখলে, শুধুমাত্র বাচ্চার পেটই ভরবে না, তা বাচ্চাকে সারাদিন এনার্জিতে পরিপূর্ণ রাখবে। ডিমে থাকে প্রচুর পরিমাণে কোলিন। কোলিন মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।  

. কমলা
বাচ্চারা ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার খুব একটা না খেলেও কমলা বা কমলার জুস খেতে পছন্দ করে। কমলাতে ভিটামিন-সি এর পরিমাণ অনেক বেশি। একটি বড়ো কমলা বাচ্চাদের দৈনন্দিন ভিটামিন-সি এর শতভাগ পূরণ করার জন্য যথেষ্ট। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিটামিন সি বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এছাড়া গবেষণাগুলো থেকে জানা যায় যে, ভিটামিন সি অনেক ভালো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হওয়ায়, তা মস্তিষ্কের ফ্রি-র‍্যাডিক্যালজনিত ক্ষতি হ্রাস করে।

. আখরোট
 আখরোট বা walnut বাদামের মতই উপকারী। তবে অন্যান্য বাদাম ও আখরোটের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো, এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বাড়ন্ত বাচ্চাদের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। একই সাথে আখরোটে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই, যা বাচ্চাদের স্মৃতিকোষ বা মেমরি সেল নষ্ট হওয়ার মাত্রাকে হ্রাস করে। তাই প্রতিদিন বাচ্চাদের ৭/৮টি আখরোট খাওয়ানোর অভ্যাস করা উচিত। বাচ্চারা সরাসরি আখরোট খেতে না চাইলে, ডেসার্টে আখরোট ব্যবহার করে খাওয়াতে পারেন।

. দুধ
দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্য, যেমন – দই, পনির, চিজ, ছানা প্রভৃতির মধ্যে অধিক পরিমাণে প্রোটিন এবং ভিটামিন-বি রয়েছে। এসকল খাদ্য উপাদান মস্তিষ্কের টিস্যু, নিউরোট্রান্সমিটার এবং এনজাইম তৈরিতে সহায়তা করে এবং এই সবকিছু মস্তিষ্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ক্যালসিয়াম। বাচ্চাদের ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা, তাদের বয়সের উপর নির্ভর করে এবং পরিবর্তিত হতে থাকে। আপনার বাচ্চার যদি দুধ খেতে পছন্দ না করে, তাহলে চিন্তা করবেন না। বাচ্চাদের প্রিয় খাবার পুডিং, শেক, স্মুদি অথবা প্যানকেক ইত্যাদি দুধ জাতীয় খাবার তৈরি করে দিন।

.ওটস
অনেকেই হয়তো মনে করেন ওটস শুধু প্রাপ্ত বয়স্করা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খেয়ে থাকেন। কিন্তু বাচ্চাদের জন্যও অনেক উপকারী। কারণ, ওটস-এ প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা বাচ্চাদের পেটকে অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভরা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ওটস ভিটামিন ই, বি কমপ্লেক্স এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ হয়, যা বাচ্চাদের মস্তিষ্ক ভালো রাখে। ওটস আরও সুস্বাদু করে তুলতে এর সাথে মধু, আপেল, কলা, ড্রাই ফ্রুটস যোগ করে খাওয়াতে পারেন।

আদরের সন্তান যেন সুন্দরভাবে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বেড়ে ওঠে, তা প্রতিটি বাবা-মার প্রত্যাশা। বিশেষ করে মায়েরা বাচ্চাদের খাবার নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত থাকেন। কারণ, সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত হলেই বাচ্চার গ্রোথ ও ব্রেইন ডেভেলপমেন্ট ভালো হবে। তাই, উপরের উল্লেখিত ৮টি খাবার নিয়মিত বাচ্চার খাদ্য তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন।

অনেকেই শুধু বাচ্চার শারীরিক বিকাশে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেন,যার ফলে বাচ্চার বুদ্ধিতে-বৃদ্ধিতে কমতি থাকে। আজ থেকে তাই শুধু শারীরিক বিকাশ নয়, সচেতন হোন শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশেও।

Leave a Reply