পরামর্শ দিয়েছেন

চৌধুরী তাসনীম হাসিন
ডায়েটিশান ও নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

যেসব খাবারে শিশুদের রাখবে সুস্থ

সুস্থ থাকতে হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি, সে ততো বেশি রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম এবং সংক্রমণের ঝুঁকি ও রোগের তীব্রতা তার জন্য কম। তাই ছোট থেকেই দরকার স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকা।
এই তালিকা আপনি করতে পারেন খুব সহজেই। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য খুব দামি খাবার নয় বরং সাধারণ খাবার যেমন- বাদাম, মৌসুমি ফল, শাক-সবজি, দই, মাছ, মাংস, পনির, ডিম, দুধ, রসুন, আদা, হলুদ-ই যথেষ্ট।

চলুন জেনে নেয়া যাক শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কোন খাবারগুলো সাহায্য করে-

প্রোটিনঃ
প্রোটিন শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, ডাল থেকে আপনি প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন পাবেন। প্রোটিনে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরের কোষকে পুষ্টি দেয়।
২ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত গড় বয়স ও ওজন অনুপাতে প্রতি কেজিতে ১ থেকে ১.৫ গ্রাম প্রোটিন প্রতিদিন দরকার। চাল ও ডালের মিশ্রণে খিচুড়ি, প্রোটিন একটি অন্যতম উৎস শিশুদের জন্য। যেকোনো লাল মাংস অর্থাৎ গরু ও খাসির মাংস এবং কলিজাতে প্রচুর পরিমাণে জিংক আছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

ভিটামিন-সিঃ
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-সি যুক্ত খাবার দারুণ কার্যকর। ভিটামিন-সি শরীরের অতি প্রয়োজনীয় একটি মাইক্রো নিউট্রিয়েন্ট। ভিটামিন সি-ত্বক, দাঁত ও চুল ভালো রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে। এই ভিটামিন পাওয়া যায় আমাদের পরিচিত ফল এবং বিভিন্ন শাকসবজিতে, যেমন: আমলকী, লেবু, কমলালেবু, পেয়ারা, জাম্বুরা, আমড়া, পেঁপে, কাঁচা মরিচ। তবে যেহেতু শরীরে ভিটামিন-সি জমা থাকে না, তাই প্রতিদিন এটি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগানের কয়েকজন গবেষক ভিটামিন সি-র উপকারিতা নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করে ৫-১২ বছরের শিশুদের দৈনিক ন্যূনতম ৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়েছেন.।

বাদামঃ
বাদামে রয়েছে জিংক যা শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জিংকের ঘাটতি হলে রক্তে শ্বেতকণিকার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা আখরোট, পেস্তা, খেজুর, কিশমিশ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। আখরোট ও কাঠবাদাম ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিপূর্ণ যা ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে বাঁচায়। গবেষণায় বলা হয়, প্রতিদিন ১০ গ্রাম বাদাম খাওয়া বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে।

দইঃ
দইতে একধরণের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু শিশুদেরই নয়, সবারই প্রতিদিন দই খাওয়া উচিৎ। হজম শক্তি বৃধি করে। খাবার পর প্রতিদিন ২ চামচ থেকে ১ কাপ টক দই খাওয়া ভালো।

মশলাঃ
কিছু মশলা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রসুন, আদা, হলুদ, লবঙ্গ, কালোজিরায় প্রচুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। এগুলো শরীরকে জীবাণুমুক্ত করে সহজে এবং সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচায়; বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। তাই পরিমাণমতো মশলা খাওয়াও আমরা শিশুদের খাবারে যুক্ত করতে পারি।

Leave a Reply