পরামর্শ দিয়েছেন

চৌধুরী তাসনীম হাসিন
ডায়েটিশান ও নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

বৃদ্ধি করতে বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জেনে নিন আদর্শ খাদ্যতালিকা

বাড়ন্ত শিশুদের নিয়ে মায়েদের দুশ্চিন্তার কোন শেষ নেই। তারা ঠিক মতো বেড়ে উঠছে কি না, যথাযথ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হচ্ছে কি না- ইত্যাদি কতো ধরনের চিন্তা মাথায় ঘুরতে থাকে, তার কোন সীমা নেই। শিশুর বিকাশ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রয়োজন একটি হেলদি ডায়েটের। কিন্তু, সেই ডায়েটে কী থাকবে? বাড়ন্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বিকাশ নিশ্চিত করতে, তার ডায়েটে নিম্নলিখিত খাবারগুলো থাকা খুবই জরুরী।

  • উচ্চতা ও ওজনবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের জন্য:

উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন প্রোটিন তথা আমিষ জাতীয় খাবারের। এজন্য তার ডায়েটে প্রতিদিন মাছ, মাংস, ডিম, দুধ পাশাপাশি ডাল ও বাদাম জাতীয় খাবার থাকতে হবে। প্রোটিন সিনথেসিসের জন্য  ভিটামিন -এ সহায়তা করে। তাই, শাকসবজি, কলিজা ইত্যাদি ভিটামিন -এ সমৃদ্ধ খাবার তার ডায়েটে রাখা উচিত। শুধু, উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি হলেই তো হবে না, শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে আরও প্রয়োজন শক্তিশালী হাড়ের গঠন। এজন্য দরকার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি।

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য:

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে প্রোটিন। পাশাপাশি ভিটামিন সি রক্তে হোয়াইট ব্লাড সেলের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। লেবু, লেবু জাতীয় সকল টক জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। এছাড়া, শীতের সবজি যেমন ব্রকলি, পালং শাক ইত্যাদি থেকেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তাই, সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এসব খাবার তার ডায়েটে থাকা খুবই জরুরী।




  • স্ট্যামিনা বৃদ্ধির জন্য:

বাড়ন্ত শিশুদের স্ট্যামিনা বৃদ্ধির জন্য মূলত প্রয়োজন কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট। খোসাযুক্ত ফল, ফলের রস, লাল চাল, লাল আটার রুটি ইত্যাদি কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের অন্যতম উৎস। এছাড়া, সবুজ শাক রক্তে রেড ব্লাড সেলের পরিমাণ বাড়িয়ে স্ট্যামিনা বৃদ্ধি করে। তাই, স্ট্যামিনা বৃদ্ধি করতে সন্তানের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এসব খাবার রাখা উচিত।

  • গ্যাস্ট্রাইটিস থেকে মুক্ত রাখতে:

হজমে দুর্বলতা, গ্যাস্ট্রাইটিস বা অতিরিক্ত গ্যাস হবার অন্যতম কারণ হচ্ছে ফাস্ট ফুড অথবা জাংক ফুড। অতিরিক্ত তেল, মশলা, প্রিজারভেটিভ যুক্ত খাবারের কারণে সাধারণত অতিরিক্ত গ্যাস হয়ে থাকে। এর থেকে মুক্তি পেতে যথাসম্ভব ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত তেল, মশলা, প্রিজারভেটিভ যুক্ত খাবার অ্যাভয়েড করতে হবে। পাশাপাশি, হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য টক দই খাবার অভ্যাস করতে হবে। অনেকে আবার দুধ জাতীয় খাবার হজম করতে পারে না। তাদের প্রতিদিন অল্প অল্প করে ল্যাকটোজ ফ্রি লো ফ্যাট মিল্ক (Lactose Free Low Fat Milk) খাবার অভ্যাস করতে হবে। এতে করে তাদের দুধের হজম শক্তি ধীরে ধীরে আবার ফিরে আসবে। এবং, গ্যাস্ট্রাইটিস থেকে মুক্ত থাকতে সহায়তা করবে।

  • ডায়েটে চাই পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেলস:

বাড়ন্ত শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য একটি সঠিক ডায়েট প্ল্যান খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাতে থাকবে যথাযথ পরিমাণে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ফার্স্ট ক্লাস ও সেকেন্ড ক্লাস প্রোটিন। এছাড়া, আরও থাকবে ভিটামিন সি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক। এক্ষেত্রে, মায়েরা লক্ষ করলে দেখবেন যে, একজন বাড়ন্ত শিশুর খাদ্যতালিকার যে ন্যাচারাল ফুড কালার, তার তিন থেকে চারটি কালারের সবজি ও ফল তাদের ডায়েটে অ্যাড করলেই মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টের একটি বড় অংশের চাহিদা পূরণ হয়ে যাচ্ছে। তাই, তাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এ ধরনের খাবার যুক্ত করা উচিত।

আসুন, হেলদি ডায়েটের সাথে আমরা নিশ্চিত করি সন্তানের স্বাভাবিক বিকাশ।

Leave a Reply