পরামর্শ দিয়েছেন

চৌধুরী তাসনীম হাসিন
ডায়েটিশান ও নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

বাচ্চার সুস্থতার জন্য ভিটামিন এ

ভিটামিনের তালিকায় সবার প্রথমে থাকে ভিটামিন এ’র নাম। দেহের জন্য প্রয়োজনীয়তার বিচারেও এটি প্রথম সারিতেই থাকে। দৃষ্টিশক্তি, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা ও দেহের বিভিন্ন তন্ত্রের জন্য এই ভিটামিনকে অপরিহার্য ধরা হয়। ভিটামিন এ সাধারণত দুই ধরণের হয়ে থাকে। একটি হলো ‘পারফর্মড ভিটামিন এ’, যা মাছ, মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারে পাওয়া যায়। আরেকটি হলো ‘প্রোভিটামিন এ’, যা শাকসবজি ও ফলমূল থেকে আমরা পাই। খাবার ও বিভিন্ন সাপ্লিমেন্টে পাওয়া প্রোভিটামিন এ হচ্ছে ‘বেটা ক্যারোটিন।’ ভিটামিন এ এন্টি-ইনফ্ল্যামেশন ভিটামিন হিসাবে পরিচিত কারণ এটি ইমিউন ফাংশন বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আমাদের দেহে যেসব কারণে ভিটামিন এ-র প্রয়োজন:

⦁ অল্প আলোতে কিছু দেখার জন্য চোখের গঠনে সরাসরি ভূমিকা রাখে ভিটামিন এ। রং দেখতে হলেও চোখের জন্য যে উপাদান প্রয়োজন, তার মধ্যে ভিটামিন এ অন্যতম। এছাড়া চোখের বাইরের কর্নিয়া ও কংজাঙ্কটিভা সুরক্ষিত রাখতে এটি সাহায্য করে।
⦁ ত্বক, অন্ত্র, ফুসফুস, মুত্রথলি ও কানের অভ্যন্তরের টিস্যুর রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে ভিটামিন এ’র ভূমিকা।
⦁ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি এটি টি-সেল নামক এক ধরণের শ্বেতরক্তকণিকা তৈরি ও ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে, যা দেহের কোন ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়াই করে।
⦁ এন্টি-ইনফ্ল্যামেশন ভিটামিন যা নানা রোগবালাইয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেহকে প্রস্তুত করে।
⦁ এন্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতাসম্পন্ন এই ভিটামিন কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।

ভিটামিন এ’র অভাবে যা হতে পারে:

⦁ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া ও রাতকানা রোগ
⦁ চোখের শুষ্কতা ও কর্নিয়ায় ইনফেকশন
⦁ চুল ও ত্বকে রুক্ষতা
⦁ নখ ভেঙ্গে যাওয়া
⦁ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া
⦁ শিশুদের দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া

ভিটামিন এ’র উৎস:
আমাদের পরিচিত নানা ফলমূল, শাকসবজি ও মাছ-মাংস থেকেই যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া সম্ভব। একটু সচেতনভাবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকা সাজালেই এই ভিটামিনের ঘাটতি সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা যায়। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ কিছু খাবারের কথা জেনে নেয়া যাক।কলিজা: গরু, খাসি কিংবা মুরগি, যেকোন প্রাণীর কলিজায় থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ।
শাক: বাজারে পাওয়া যায় এমন প্রায় সব শাকই ভিটামিন এ ভরপুর। এদের মধ্যে কচু শাক, হেলেঞ্চা শাক, পুই শাক, লাউ শাক, পাট শাক, লাল শাক, সজিনা পাতা, ধনিয়া পাতা ইত্যাদিতে এই ভিটামিন অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।
গাজর: গাজরের কমলা রঙয়ের প্রধান উৎস হলো এতে থাকা বেটা ক্যারোটিন, যা খাওয়ার পর দেহে ভিটামিন এ’তে রুপান্তরিত হয়। দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ’র চাহিদা মেটাতে সক্ষম গাজর রান্নার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর নাস্তা হিসেবে কাঁচাও খাওয়া যায়।
মিষ্টি কুমড়া: ভিটামিন এ’র সুলভ একটি উৎস হলো মিষ্টি কুমড়া। প্রায় সারা বছরই এটি বাজারে পাওয়া যায়।
ফলমূল: আম, কাঠাল, পেঁপে ইত্যাদি রঙিন ফলেও অনেক ভিটামিন এ থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু এই ফল দিয়ে দেহের ভিটামিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব।
ডিম: হাঁস, মুরগি, কোয়েল ইত্যাদির ডিমও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ।
মাছ-মাংস: দৈনিক আমিষের চাহিদা মেটাতে খাওয়া মাছ মাংসেও থাকে ভিটামিন এ।
দুধ: আদর্শ খাবার দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন এ পাওয়া যায়।

Leave a Reply