পরামর্শ দিয়েছেন

শায়লা সাবরিন
সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

ফুডপয়জনিং হলে কী করবেন?

খাবার বা পানীয়তে থাকা ব্যাকটেরিয়া অথবা টক্সিননের কারণে ফুড পয়জনিং হতে পারে। কিছু ভাইরাসও এ সমস্যার জন্য দায়ী।  শিশুদের ফুড পয়জনিং-এ আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বড়দের মত নয়। তাই বড়দের তুলনায় তারা দ্রুত সমস্যায় আক্রান্ত হয়।

কেন হয় ফুডপয়জনিং?

সাধারণত বাইরের খাবার, স্বাস্থ্য সম্মতভাবে তৈরি না করা খাবার খাওয়া এবং জীবাণুযুক্ত খাবার, মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার অথবা পচা-বাসি খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হতে পারে। ফুড পয়জনিং হলে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুর পেটে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা, সঙ্গে জ্বরও হতে পারে।

* সাধারণত বাসি-পচা, অস্বাস্থ্যকর ও জীবাণুযুক্ত খাবার এবং অনেকক্ষণ গরমে থাকার ফলে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খেলে ফুড পয়জনিং হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

*খাবার সঠিক পদ্ধতিতে ও তাপমাত্রায় রান্না বা সেদ্ধ না করলে। যেমন- দুধ, ডিম, কাঁচা মাংশ যেগুলো খুব সহজেই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।

*কাঁচা খাবার সংরক্ষণের জন্য সঠিক স্থান ও তাপমাত্রা ঠিক না থাকলে।

*খাদ্য উৎপাদন থেকে সংরক্ষণকালে বিষাক্ত বা টক্সিন উপাদান ব্যাবহারে যা খাওয়ার পূর্বে সঠিকভাবে না ধোয়ার ফলে ফুড পয়জনিং হতে পারে।

*খাবারের জন্য ব্যবহৃত থালা-বাটি ভালোভাবে না ধোয়ার ফলে এ সমস্যা হতে পারে।

*খাওয়ার আগে হাত ভালো করে না ধুলেও এ সমস্যা অবশ্যই হবে।

*মল ত্যাগের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত নাধুলে।

*রাস্তায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার থেকে ফুড পয়জনিং হতে পারে। কেননা, এ সব ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই নিরাপদ পানি ব্যাবহার করা হয়না, সেই সাথে বাসি- পচা খাবারও অনেক সময় পরিবেশন করা হয় ।

*গরমে ঘরের খাবারও যদি অনেকক্ষণ ধরে বাইরে রাখা থাকে, তাহলে সেগুলো দ্রুত নষ্ট হয়। না বুঝে খেয়ে ফেললে তা থেকেও ফুড পয়জনিং হতে পারে।

ফুডপয়জনিং হলে করনীয়:

ফুড পয়জনিং অনেক সময় শারীরিক জটিলতার কারন হতে পারে। এর কারণে ঘন ঘন বমি ও পায়খানার ফলে  শিশু বা প্রাপ্ত বয়স্কদের ডিহাইড্রেশন হতে পারে, সেই সাথে শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের ঘাটতি বা ইলেক্ট্রোলাইটস ইম্ব্যালেসন্ড দেখা দেয়, শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। জটিলতার কারণে কিডনিও বিকলগ্নহতে পারে।  তাই এই সমস্যায় শরীরে পানির ঘাটতি পূরণের জন্য ঘন ঘন তরল জাতীয় খাবার যেমনঃ স্যালাইন বা ওআরএস, ডাবের পানি, রাইস স্যালাইন সেই সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিরাপদ পানি বারে বারে গ্রহণ করতে হবে।  অবস্থা বেশি গুরুতর হলে চিকিৎসক-এর পরামর্শ অনুযায়ী তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো শ্রেয়।

*ফুড পয়জনিং খাবারের কারণেই হয়, তাই খাবার সুরক্ষিত রাখা জরুরি।

*ফ্রিজে সঠিক তাপমাত্রায় খাবার সংরক্ষণ করুন।

*কাঁচা মাছ, মাংস বেশি দিন ফ্রিজে রাখা যাবে না। যত তাজা খাবার খাওয়ানো যায় তত ভালো। বেশি দিন হয়ে গেলে সেই খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা থেকে ফুড পয়জনিং হতে পারে।

*মেয়াদোত্তীর্ণ কোনও খাবার, প্যাকেটজাত বা ক্যানজাত খাবার শিশুকে খাওয়ানো যাবে না। শুধু শিশু নয়, বড়দেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।

*খাবার খাওয়ানোর আগে নিজের এবং শিশুর হাত সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।

*বাজার থেকে নিয়ে আসা সবজি বা ফলমূল ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন। এতে কোনও ময়লা থাকলে চলে যাবে।

*মাছ, মাংস রান্না করার পর পুরো রান্নাঘর ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। যেন কোনও জীবাণু না থাকে।

*কোনও খাবার গরম করতে হলে শুধু গরম করলেই হবে না। ভালো করে উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বাল দিতে হবে বা ওভেনে গরম করতে হবে।

এছাড়া খেয়াল রাখতে হবে, যদি পাতলা পায়খানা, বমি নিয়ন্ত্রণে আনা না যায় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। সবশেষে, শিশুরা যাতে যত্রতত্র ফাস্টফুড, সফট ড্রিংকস্‌, আইসক্রিম না খায় তার জন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।

Leave a Reply