পরামর্শ দিয়েছেন

সামিরা খালেক সুকৃতি
চিফ কনসালটেন্ট ডায়েটিশান

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

পেট কষাভাব দূর করতে বাচ্চাকে দিন বিশেষ খাবার

সব বয়সের সবার জন্যই কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট কষা হওয়া বেশ কষ্টকরবিশেষ করে ১-৩ বছরের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সমস্যাটা আরও সিরিয়াস। সাধারণত ডায়েটে ব্যালেন্স না থাকলে এ সমস্যা হয়। তাই বাচ্চার পেট কষা হলে আগে খুঁজে দেখতে হবেবাচ্চার খাবারটা ঠিক আছে কি না। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন যে বাচ্চার পেট কষা হয়েছে?

বাচ্চার পেট কষা হয়েছে কিনা সেটা অনেক সময়ই দেখে বুঝা যায় না, আর তাই তখন এর সমাধান বের করাটাও হয়ে উঠে কঠিন। তবুও, কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ দেখে বুঝা যায় যে বাচ্চার পেট কষা হয়েছে।

যেমন-

বাচ্চার পটি শক্ত ও লম্বা হওয়া
সপ্তাহে ৩ বার পটি না করা
‘র‍্যাবিট ড্রপিংস’ বা চাক ধরা পটি হওয়া
বাচ্চা পটি করার সময় ব্যথা পাওয়া
পটি’র সময়ে হালকা রক্ত যাওয়া
পটি করার পড়ে বাচ্চার পেট ব্যথা কমে যাওয়া
বাচ্চার খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া
বাচ্চার ক্ষুধামন্দা ভাব

এই উপসর্গগুলো বাচ্চার মাঝে দেখা দিলে বুঝবেন, তার পেট কষা হয়েছে। এক্ষেত্রে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া খুব জরুরী। পাশাপাশি, তার খাদ্যাভ্যাসে আনা দরকার পরিবর্তন। কেননা এই পরিবর্তনগুলোই তাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় সারভাইভ করতে সাহায্য করবে।

child eating food in chair
বাচ্চা ভালো খেলেই ভালো থাকবে
পেট কষা হলে বাচ্চাকে যেসব খাবার খেতে দিবেন-

তাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খাওয়ান; এটা কিন্তু মাস্ট! অনেক বাচ্চা পানি খেতে চায় না। সেক্ষেত্রে, সুন্দর কার্টুন-ওয়ালা বোতল কিংবা স্ট্র দিয়ে পানি খেতে দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি, তাকে পেঁপে, কলা, কমলার জুসও খাওয়ানো যেতে পারে।

হেলদি ফ্যাট পটি নরম হতে সাহায্য করে। তাই, তার ডায়েটে হেলদি ফ্যাট যেমন নারকেল তেল, নারকেলের দুধ, বাদাম, পিনাট বাটার ইত্যাদি যোগ করুন। বাচ্চা খেতে না চাইলেও লুকিয়ে তার পছন্দের খাবারের সাথে এক চামচ মিশিয়ে দিন।

তরমুজ, আম, শসাতে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। পানি সমৃদ্ধ এসব সবজি ও ফল কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় খুবই উপকারী। বাচ্চা যদি এই ধরণের ফল খেতে না চায় তবে তাকে জুস বানিয়ে খাওয়াতে পারেন।

হেলদি ফ্যাট ও পানি সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার মিশিয়ে খাওয়ান; এতে বাচ্চার ডাইজেস্টিভ সিস্টেম ভালো কাজ করবে। তাই, তাকে হাই ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার যেমন- খোসাসহ আলু, কষাযুক্ত ফল, ওট মিল, শাক পাটাকপি, পপকর্ণ ইত্যাদি খেতে দিন। কিন্তু এসব খাবার দেওয়ার সময় পানি, হেলদি ফ্যাট এবং পানি সমৃদ্ধ ফুড যুক্ত করতে ভুলবেন না যেনো। না হলে, অবস্থা উল্টোটা হবে

বাচ্চাকে সারাদিন অ্যাক্টিভ রাখুন। এটি তার ডায়জেস্টিভ সিস্টেম ভালো করতে সহায়তা করবে।

বাচ্চাকে পটি করাতে এমন সিট ব্যবহার করুণ যাতে সে হাটু ভেঙে স্কোয়াট পজিশনে বসতে পারে। এই পজিশনটা বাচ্চার জন্য বেশ আরামদায়ক ও সুবিধাজনক।

বাচ্চার ওজন ও উচ্চতা ভেদে পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করে তার দৈনিক পানির পরিমাণ নির্ণয় করুন।

ডিপ ফ্রাইড খাবার এবং রিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার তার অবস্থা আরও বেশি খারাপ করতে পারে। তাই, এ ধরণের খাবার এসময়ে এড়িয়ে যাওয়া ভালো। মনে রাখা জরুরী যে, এই খাদ্যাভাসগুলো তাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় সাহায্য করবে; তবে কোষ্ঠকাঠিন্য ভালো করে দিবে না। তাই, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য আপনাকে আলাদা ব্যবস্থাগুলোও নিতে হবে। এক্ষেত্রে  সবচেয়ে ভালো হয়, যদি তার পটি টাইম রুটিনের আওতায় আনা যায়। তাহলে, ঘরে থাকা অবস্থায় তার নিয়মিত পটি করার অভ্যাস তৈরি হবে এবং সে এধরণের সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। আসুন, আমরা আমাদের বাচ্চার খাদ্যাভ্যাসে হেলদি কিছু পরিবর্তন এনে তাকে মুক্ত রাখি কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে।

Leave a Reply