পরামর্শ দিয়েছেন

শায়লা সাবরিন
সিনিয়র ডায়েটিশিয়ান

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

দৈহিক সুস্থতায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জিংক কেন প্রয়োজন?

সুস্থ থাকতে হলে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে পরিপূর্ণ থাকা চাই। সহজভাবে বলতে চাইলে, প্রতিদিনই একজন মানুষের সুস্থ জীবন-যাপনে আদর্শ খাদ্য অর্থাৎ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, মিনারেল ও পানি থাকা জরুরি। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানসমূহের মধ্যে জিংক অন্যতম একটি মাইক্রো-নিউট্রিইয়েন্ট। দৈনন্দিন আমাদের শরীরে অন্তত ১৫ মিলিগ্রাম জিংক প্রয়োজন। চলুন আমাদের বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেই, দৈহিক সুস্থতায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জিংক কেন প্রয়োজন ও কোন কোন খাবার থেকে আমরা জিংক-এর ঘাটতি পূরণ করতে পারি।

দৈহিক সুস্থতায় প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় যে কারণে জিংক প্রয়োজন

আমাদের শরীরে প্রায় তিনশ এর বেশি এনজাইম রয়েছে। জিংক-এর অভাবে আমাদের দেহে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। চলুন তবে জেনে নেই জিংক-এর অভাবে কী কী সমস্যা হতে পারে।

জিংকএর অভাবে যে সকল সমস্যা হতে পারে

  • গর্ভবতী মায়েদের শরীরে জিংক-এর ঘাটতি হলে বাচ্চার জন্মগত ত্রুটি হতে পারে ও শিশুর ওজন কম হতে পারে
  • জিঙ্কের অভাবে বাচ্ছাদের ক্ষুধামন্দা বা খাবারে অরুচি দেখা দিতে পারে।
  • শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে জিঙ্কের অভাবে।
  • জিংক-এর ঘাটতি থাকলে বাচ্চাদের শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্থ হয়। যা এমনকি বামনত্ব-এর দিকে ধাবিত হতে পারে।
  • জিংকের অভাবে হতে পারে মানসিক দুর্বলতা
  • অমনোযোগিতা এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে জিংকে-এর ঘাটতি বিশেষভাবে দায়ী
  • জিংক-এর অভাবে চুল পড়ে যায় ও ত্বকের ক্ষত সহজে নিরাময় হয় না।

যে সকল খাবার জিংকএর উত্তম উৎস

লাল মাংসে (গরু, ভেড়া, খাসি) উচ্চমাত্রায় জিংক রয়েছে। তাছাড়া, কলিজা, বিভিন্ন ধরনের ডাল, বীজ জাতীয় খাবার যেমন- মিষ্টি কুমড়ার বিচি, শিমের বিচি, সয়াবিন, বিভিন্ন বাদাম যেমন- কাঠ বাদাম, চীনা বাদাম, কাজু বাদাম) মাশরুম, দুগ্ধজাতখাদ্য, ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে জিংক রয়েছে। প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় জিংক-এর চাহিদা পূরণ করতে, খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন জিংক-এ পরিপূর্ণ এসকল খাদ্য। দেহের বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে থাকুন ও সুস্থ থাকুন প্রতিদিন!

Leave a Reply