পরামর্শ দিয়েছেন

চৌধুরী তাসনীম হাসিন
ডায়েটিশান ও নিউট্রিশন স্পেশালিস্ট

শেয়ার এবং প্রিন্ট করুন

জ্বর-কাশি, ঠাণ্ডা নিয়ে সব ধারণা সঠিক না

কোনও অসুস্থতাই আসলে অবহেলা করার নয়। তবে লক্ষ্য করে দেখবেন যে, যেকোনো অসুস্থতা নিয়ে প্রায় সবার মাঝেই আছে কম-বেশি ভুল ধারণা। যেমন ধরুন জ্বর, কাশি বা ঠাণ্ডায় কী করা যাবে আর কী করা যাবে না- এই নিয়ে অনেকের মাঝে আছে কিছু প্রচলিত বিশ্বাস। কিন্তু সেগুলোর সবগুলোই কি সঠিক? চলুন জেনে নেয়া যাক জ্বর-কাশি বা ঠাণ্ডা নিয়ে আমাদের মাঝে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো কী কী।

ঠাণ্ডা লাগলে খাওয়া যাবে না কলা, আঙ্গুর, কমলা…

এই ধারণা ভুল! অনেকেই মনে করেন ঠাণ্ডা বা জর-কাশিতে আঙ্গুর, কমলা এমনকি কোনও ফলই খাওয়া যাবে না। অথচ এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত যে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ঠাণ্ডা কাশি দূর করতে সহায়ক। পরিমাণমতো ফল খাওয়া যেতেই পারে! তবে দিনের প্রথমভাগে ফল খাওয়া ভালো। এবং খালি পেটে না খেয়ে একটি মুল খাবারের সাথে ফল খাওয়াটা বেশি গ্রহণযোগ্য। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে ফল যেন ঠাণ্ডা না হয়, অর্থাৎ ফ্রিজের থেকে বের করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে একটু কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।

খাওয়া যাবে না কোনও দুগ্ধজাত খাবার…

“ঠাণ্ডার মধ্যে দই খাওয়ার দরকার নেই”- এমন কথা অনেকেই বলে। কেন যেন অনেকেরই বিশ্বাস দই ঠাণ্ডা খাবার, এটি খেলে কাশি বাড়তে পারে। আসলে, এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। ঠাণ্ডা, কাশি বা জ্বরে দই খাওয়া নিরাপদ। তবে দই হোক আর যাই হোক, ফ্রিজে রাখা ঠাণ্ডা যেকোনো খাবারই ঠাণ্ডা-জ্বরের জন্য ক্ষতিকর। দইয়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনে একটু কুসুম গরম পানিতে অল্প সময় ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে।

জ্বর নিয়ে গোসল নয়…

এই ধারণা থেকে বর্তমানে অনেকেই সরে এসেছে। আগে একটা ধারণা ছিল জ্বর-ঠাণ্ডায় গোসল করা যাবে না। এখন ডাক্তাররাই বলেন, জ্বর হলে গোসলটা নিয়মিত করতে কিংবা ভেজা গামছা বা কামড় দিয়ে গা মুছে দিতে। এসময় হালকা গরম পানিতে গোসল করলে শরীর একটু ভাল লাগে। এছাড়াও লক্ষ্য রাখতে হবে, জ্বরের সময় যেকোনো ইনফেকশনের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে, তাই হাইজিনের বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে।

যতবার জ্বর, ততবার প্যারাসিটেমল…

মনে রাখবেন, অপ্রয়োজনে যেকোনো ওষুধই শরীরের জন্য খারাপ। দিনের মধ্যে যতবারই জ্বর আসে ততবারই প্যারাসিটামল দিয়ে নামানোর চেষ্টা করেন। এটা করবেন না। কারণ, আপনি হয়তো জানেন না যে, মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল-এর কারণে, মৃত্যুও হতে পারে। একইভাবে, অনেকের ধারণা সাপোজিটরিরও কোনও নির্দিষ্ট মাত্রা নেই। এটাও ভুল! ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কখনই কোনও ওষুধ খাবেন না, বা গ্রহণ করবেন না।

Leave a Reply